ব্যস্ত জীবনে শরীরে বাসা বাঁধছে নানান রোগ৷ স্ট্রেস, ডিপ্রেসন, ওবেসিটি- শব্দগুলি অজান্তেই সঙ্গী হয়ে গিয়েছে আধুনিক জীবনের৷প্রাচীনকাল থেকেই ঋষি-মুনিরা বলে আসছেন শরীর-মন সুস্থ রাখতে যোগের কোনও বিকল্প নেই৷
সুস্থ থাকতে চারটি যোগব্যায়ামের পরামর্শ দিলেন যোগামন্ত্রার যোগাথেরাপিস্ট বিপাসা ভট্টাচার্য৷

যোগের উপকার:
১. প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়ার শক্তি দেয়৷
২. মনকে চাঙ্গা করে আরও চাপমুক্ত রাখে৷
৩. মানসিক এবং স্নায়বিক দিক থেকে যোগার গুরুত্ব অপরিসীম৷
৪. মনের চঞ্চলতাকে কমিয়ে দিতে সাহায্য করে৷

ওজন কমাতে চক্রাসন, ভূজাঙ্গসন, ধনুরাসন, পশ্চিমোত্তানাসন এই চারটি ব্যায়াম খুব ভালো উপকার দেয়৷ দিনের যে কোনও সময় ৩০ মিনিট এই চারটে ব্যায়ামের জন্য দিন৷ তারপরই দেখবেন হাতেনাতে ফল পাচ্ছেন৷

চক্রাসন
পদ্ধতি: সোজা হয়ে শুয়ে নিন৷ আস্তে আস্তে হাঁটু দুটি ভাজ করে দুই হাতের জোরে নিতম্বসহ শরীরটি তুলুন৷ হাঁটু যতটা সম্ভব ভাঁজ করে গোড়ালিকে হালকা স্পর্শ করুন হাত দিয়ে৷ শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখুন৷এইভাবে ৩০ সেকেন্ড রেখে আবার শবাসনে চলে আসুন৷ এইভাবে পাঁচবার করুন৷

উপকারিতা: কোমরে বেদনা, বুকের খাঁচা গঠনের দোষ, কোষ্ঠকাঠিন্য, মৃগি, ব্রঙ্কাইটিস, হাঁপানি, লো ব্লাড প্রেসার প্রভৃতি কমাতে ও স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য এবং লম্বা হতে সাহায্য করে।

ভুজঙ্গাসন
পদ্ধতি: উপুড় হয়ে শুয়ে হাতের তালু দু’টি বুকের দু’ পাশে মাটিতে এমন ভাবে রাখুন যে আঙুলের ডগাগুলি কাঁধের বরাবর (লেভেল–এ)থাকে। হাতের কনুই গায়ের সঙ্গে লেগে থাকবে। পা দু’টি জোড়া ও পায়ের পাতা পেতে থাকবে। এ বার কোমরের উপর জোর দিয়ে নাভি থেকে শরীরের উপরিভাগ মাটি থেকে তুলুন। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে এই অবস্থায় মনে মনে দশ থেকে ক্রমশ বাড়িয়ে তিরিশ গোনার পর উপুড় হয়ে শবাসনে বিশ্রাম নিন। এভাবে তিন বার করুন।

উপকারিতা : কোমরের ব্যথা, অজীর্ণ, গ্যাসট্রাইটিস, গ্যাসট্রিক আলসার, স্পন্ডিলোসিস, শিরদাঁড়ায় বক্রতা, মেয়েদর মাসিকের গণ্ডগোল, লো ব্লাডপ্রেসার প্রভৃতিতে উপকার হয়।

ধনুরাসন
পদ্ধতি: সটান উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন। পা দু’টো হাঁটুর কাছ থেকে ভেঙে পায়ের পাতা যতদূর সম্ভব পিঠের উপর নিয়ে আসুন। এবার হাত দু’টো পেছনদিকে ঘুরিয়ে নিয়ে দু’হাত দিয়ে দু’পায়ের ঠিক গোড়ালির উপরে শক্ত করে ধরুন এবং পা দু’টো যতদূর সম্ভব মাথার দিকে টেনে আনুন। বুক, হাঁটু ও উরু মেঝে থেকে উঠে আসবে। শুধু পেট ও তলপেট মেঝেতে থাকবে। এবার উপরদিকে তাকান। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে এবং ২০ সেঃ থেকে ৩০ সেঃ এই অবস্থায় থাকুন। এরপর হাত-পা আলগা করে আস্তে আস্তে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন। একটু বিশ্রাম নিয়ে আসনটি ২/৩ বার করুন। প্রয়োজনমতো শবাসনে বিশ্রাম নিন।

উপকারিতা: এই আসন মেরুদণ্ডের হাড়ের জোড় নমনীয় রাখে। মেরুদণ্ড-সংলগ্ন স্নায়ুমণ্ডলী ও তার পাশের পেশী সতেজ ও সক্রিয় রাখে। বুকের পেশী ও পাঁজরের হাড় বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং বুক সুগঠিত করে। হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে। তলপেটের উপর দেহের সমস্ত ভার পড়ে বলে ওই অঞ্চলের পেশী, স্নায়ুজাল সবল ও সক্রিয় থাকে এবং পাকস্থলী, ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদন্ত্র, প্লীহা, যকৃৎ খুব ভালো কাজ করে। যাদের বুক বয়স অনুযায়ী সরু ও অপরিণত, তাদের এ আসনটি অবশ্য করা উচিৎ। আসনটি অভ্যাসে দেহের মধ্যভাগের অপ্রয়োজনীয় মেদ দূর হয়, মনের চঞ্চলতা দূর করে এবং স্বভাবে ধৈর্য্য বৃদ্ধি করে। কোন স্ত্রী-রোগ বা পেটের রোগ সহজে আক্রমণ করতে পারে না।

পশ্চিমোত্তানাসন
পদ্ধতি: প্রথমে দুই পা ছড়িয়ে সোজা হয়ে বসুন। এবার দুই হাত সোজা করে, ডান হাতের বৃদ্ধা ও তর্জনী দ্বারা ডান পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুল এবং বাম হাতের বৃদ্ধা ও তর্জনী দ্বারা বাম পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুল ধরুন।এবার সামনের দিকে ঝুঁকে দুই হাঁটুতে কপাল ঠেকান।এই সময় উভয় হাতের কনুই ভাঁজ করে উভয় পায়ের বাইরের দিকে নামিয়ে দিন। এবার বুক ও পেটকে পায়ের সঙ্গে যুক্ত করুন।শ্বাস-প্রশ্বাস ঠিক রেখে এই অবস্থায় ৩০ সেকেণ্ড স্থির থাকুন।৩০ সেকেণ্ড শেষে, মাথা উপরে তুলে এবং পা থেকে হাত সরিয়ে পা দুটো ছড়িয়ে বসুন। এরপর ৩০ সেকেণ্ড শবাসনে বিশ্রাম নিন। একইভাবে আরও দুই বার করুন।

উপকারিতা: মেরুদণ্ড, পেট, হৃদপিণ্ডের ব্যায়াম হয়। যৌনগ্রন্থিগুলো সতেজ হয়। পুরুষদের যৌনক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।পায়ের পেশী সবল হয়। এবং পায়ের বাত নিরাময় হয়।পেটের অসুখ প্রতিরোধ করে। স্নায়ুর দুর্বলতা কমে যায়।বহুমূত্র রোগ প্রশমন করে।

----
--