কেন্দ্রের ‘আগ্রাসনে’ স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে বিচার্য নয় যোগ

বিশ্বজিৎ ঘোষ, কলকাতা: কেন্দ্রীয় সরকারের ‘আগ্রাসনে’র কাছে বিচার্য বিষয় হয়ে উঠতে পারছে না যোগ৷ আর, তারই জেরে, পশ্চিমবঙ্গের সরকারি হাসপাতালে চুক্তির ভিত্তিতে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের আগ্রহ নেই আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে৷

যদিও, সরকারি হাসপাতালের রোগীদের স্বার্থে এই স্বাস্থ্যকর্মীরা বছরভর বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছেন৷ ওই সব উদ্যোগের মধ্যে গ্রীষ্মকালীন রক্তসংকট মোকাবিলার বিষয়টিও রয়েছে৷ যে কারণে, এই সময় বিভিন্ন হাসপাতালে শিবিরের আয়োজন করে এই স্বাস্থ্যকর্মীদের সংগঠন সারা বাংলা হাসপাতাল রোগীকল্যাণ ও অস্থায়ী ঠিকা কর্মী ঐক্য কেন্দ্র৷

এই সংগঠনের সদস্যরা বাদেও ওই সব শিবিরে সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল অথবা হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স এবং অন্য স্বাস্থ্যকর্মী সহ রোগীর পরিজনদের অনেকেই রক্তদান করেন৷ কিন্তু, আন্তর্জাতিক যোগ দিবস? ২০১৫ থেকে ২১ জুন এই দিবস পালিত হয়ে চলেছে৷ এ বারও দেশ এবং বিদেশের বিভিন্ন স্থানে ২১ জুন যোগ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে৷ কিন্তু, কোনও বছরই এই দিবস পালন করেনি এ রাজ্যের সরকারি হাসপাতালে চুক্তির ভিত্তিতে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের এই সংগঠন৷

- Advertisement -

আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে এ বার কোনও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে? এই সংগঠনের মুখ্য উপদেষ্টা বিশ্বনাথ চক্রবর্তী বলেন, ‘‘দেশে যে ধরনের পরিস্থিতি চলছে, তাতে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস বিচার্য নয়৷’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘বিভিন্ন রকম ভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসনের শিকার হতে হচ্ছে৷ এই জন্য ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণআন্দোলন আমরা শুরু করে দিয়েছি৷ বিভিন্ন সংগঠন এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে৷ এই গণআন্দোলনে কোনও রাজনৈতিক দলের পতাকা নেই৷’’

শুধুমাত্র এমনও নয়৷ বিশ্বনাথ চক্রবর্তী বলেন, ‘‘মানুষ যখন নিরাপদ মনে করেন, তখন কোনও দিবস পালনে আগ্রহী হয়ে উঠতে পারেন৷ কিন্তু, কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসন এখন ভয়াবহ বিপদ৷ কর্পোরেটদের রক্ষা করে চলছে কেন্দ্রীয় সরকার৷ ব্যাংকে সুরক্ষিত থাকতে পারবেন না সাধারণ মানুষ৷ দেশে সম্প্রীতির পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা চলছে৷ এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস গৌণ হয়ে উঠেছে৷’’ একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, সরকারি হাসপাতালে চুক্তির ভিত্তিতে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীরা বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন৷

রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধেও তা হলে আন্দোলন চলছে? সারা বাংলা হাসপাতাল রোগীকল্যাণ ও অস্থায়ী ঠিকা কর্মী ঐক্য কেন্দ্রর মুখ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘‘রাজ্য সরকারের অনেকে ক্ষতিসাধন করছেন৷ তবে, অভ্যন্তরীণ এই বিষয়ে রাজ্য সরকারের কাছে আমরা দাবিও পেশ করছি৷ কিন্তু, কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসন সর্বগ্রাসী৷ এর আগে এমন বিপদের সম্মুখীন হতে হয়নি৷’’ কেন্দ্রীয় সরকারের এই ‘আগ্রাসনে’র বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন স্থানে সভা আয়োজনের মাধ্যমে আন্দোলন চলছে বলেও তিনি জানিয়েছেন৷

Advertisement
---