বিশ্বজিৎ ঘোষ, কলকাতা: যৌনকর্মীদের জন্য বিভিন্ন সময় যোগ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়৷ তবে, যোগে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেননি দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির অধীনে থাকা যৌনকর্মীরা৷
অথচ, যোগে অভ্যস্ত হয়ে উঠলে, শরীর-মনকে সুস্থ রাখার বিষয়টি যে অসম্ভব নয়, তেমনই বলেন বিশেষজ্ঞরা৷ কিন্তু, কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের যৌনকর্মীদের জন্য যোগ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থার পরেও তাঁদের কত জন যে নিয়মিত অনুশীলন করেন, সেই বিষয়ে প্রশ্ন রয়েছে খোদ দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটিরই বিভিন্ন অংশে৷

তা হলে, সমস্যা কোথায়? না, কি, যোগে অভ্যস্ত হয়ে ওঠার বিষয়টি যৌনকর্মীদের কাছে সম্ভব নয় তাঁদের পেশার কারণে? দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির মুখ্য উপদেষ্টা, ডাক্তার স্মরজিৎ জানা বলেন, ‘‘সেভাবে কোনও সমস্যা নেই৷ এই বিষয়ে ভাবা যেতে পারে৷’’ আগামী ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস৷ এ বার চতুর্থ বছরে পড়ল এই দিবস৷ কলকাতা সহ রাজ্যের অন্য কোনও যৌনপল্লিতে এই দিবসে কোনও কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে?

Advertisement

ডাক্তার স্মরজিৎ জানা বলেন, ‘‘আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে এখনও আমাদের কোনও কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়ে ওঠেনি৷’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘যোগ, ভালো৷ শুধুমাত্র একদিনের জন্য নয়৷ যোগে অভ্যস্ত হয়ে ওঠার বিষয়টি খুবই ভালো৷’’ ওয়াকিবহাল মহলের বিভিন্ন অংশ এমনই মনে করে, যোগের বিষয়টি নতুন করে কিছু আর বলার অপেক্ষা রাখে না৷ স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য যোগ অভ্যাসের বিকল্প সেভাবে কিছু আর নেই৷

যদিও, এ ক্ষেত্রে কোনও কোনও অংশে ভিন্ন মতও রয়েছে৷ এবং, সকলের পক্ষেই যে যোগ অনুশীলন করা সম্ভব, তাও নয়৷ আর, এই ধরনের পরিস্থিতির মধ্যেই ২০১৫ থেকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালিত হচ্ছে৷ এ দিকে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগকে যাতে চালু করা সম্ভব হয়, যোগ যাতে অভ্যাস হিসাবে গড়ে ওঠে, তার জন্য বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে প্রচেষ্টা জারি রয়েছে৷

কিন্তু, পশ্চিমবঙ্গের যৌনকর্মীদের ক্ষেত্রে? কোনও কোনও অংশের তরফে এমনও জানানো হয়েছে, যোগকে প্রতিদিনের অভ্যাস হিসাবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যৌনকর্মীদের অনেকের কাছে সেভাবে সুযোগ নেই৷ যদিও, দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির মুখ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘‘কমিউনিটির সদস্যদের জন্য মাঝে মধ্যে যোগ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়৷’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং যোগকে অভ্যাসে পরিণত করার বিষয়টি ভেবে দেখা হবে৷’’

----
--