যোগমায়াই বাঁচিয়েছিলেন সদ্যজাত শ্রীকৃষ্ণকে, তিনিই আবার পরজন্মে সীতা

যোগমায়া এক হিন্দু পৌরাণিক চরিত্র। ইনি সদ্যজাত কৃষ্ণকে কংসের হাত থেকে বাঁচিয়েছিলেন৷ বিষ্ণুর স্ত্রী হিসাবে লক্ষ্মীদেবী যোগমায়া রূপে প্রসিদ্ধা। আবার ইনিই সীতারূপে জন্মলাভ করেছিলেন। মার্কণ্ডেয় পুরাণ মতে তিনিই আবার আদ্য শক্তি মহামায়া। অগ্নিপুরাণ ও ভাগবত মতে– ইনি, কৃষ্ণের জন্মের সময় যশোদার গর্ভে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

কৃষ্ণের মা দেবকীর দাদা কংস জরাসন্ধের সহায়তায় বৃদ্ধ পিতা রাজা উগ্রসেনকে বন্দি করে মথুরার রাজা হন। আবার দেবকীর সঙ্গে বসুদেবের বিবাহ হয়। বিবাহের সময় দৈববাণী শোনা যায়-দেবকীর অষ্টম সন্তান তাঁকে বধ করবে। তাই তিনি দেবকী ও বাসুদেবকে কারারুদ্ধ করেন। কারাগারে এঁদের পর পর ছয়টি সন্তান হয়, তাদের সকলকে কংস হত্যা করেন। সপ্তম সন্তান শ্রীবলরাম দেবকীর গর্ভ থেকে প্রতিস্থাপিত হন গোকুলবাসী বসুদেবের দ্বিতীয় স্ত্রী রোহিণীদেবীর গর্ভে। সেখানেই ভাদ্রমাসের পূর্ণিমায় তাঁর জন্ম হয়।

এরপরে ভাদ্র মাসের কৃষ্ণা অষ্টমীতে বসুদেবের ঔরসে দেবকীর গর্ভে জন্ম নেন কৃষ্ণ আবার সেই সময় ব্রজধামে নন্দের স্ত্রী যশোদার গর্ভে জন্ম নেন যোগমায়া। ফলে দেবকীর অষ্টম সন্তান কৃষ্ণের জন্মগ্রহণের পরপরই, বসুদেব কংসের ভয়ে কৃষ্ণকে ব্রজধামে নন্দের বাড়িতে নিপাপদ আশ্রমে রেখে আসেন এবং তাঁর সদ্যজাতা কন্যা যোগমায়াকে নিয়ে এসে দেবকীর পাশে শুইয়ে দেয় যাতে সদ্যজন্ম দেওয়া মা মনে করেই এটিই তাঁর সদ্যজাত সন্তান৷

বসুদেব, নন্দের কাছ থেকে যে কন্যা শিশুটিকে নিয়ে কারাগারে ফিরে এসেছিলেন তার নাম হিসেবে যেমন বলা হয় যোগমায়া৷ তেমনি আবার বলা হয় যোগমায়ার প্রভাবেই সেই রাতে ঝড়-বৃষ্টি পূর্ণ দুর্যোগময় আবহাওয়ার সৃস্টি হয়েছিলো এবং কংসসহ কারাগারের রক্ষীরা সবাই গভীর ঘুমে অচেতন হয়ে পড়েছিলো। এদিকে কারগারে থাকা সদ্যজাত কন্যা সন্তানের কান্নার আওয়াজে ধীরে ধীরে সকলে জেগে যায় এবং কংস বুঝতে পারেন দেবকীর অষ্টমগর্ভজাত সন্তান জন্ম নিয়েছে৷ কংস তখন যোগমায়াকে পাথরে নিক্ষেপ করে হত্যা করতে আদেশ দেন, কিন্তু শিশু যোগমায়া মারতে নিক্ষিপ্ত করতে গেলে কোন এক মায়াবলে সে ওই অবস্থায় আকাশে উঠে যান৷ তখনই তিনি ওই অবস্থায় কৃষ্ণের জন্মের বার্তা দিতে ঘোষণা করেন- তোমারে বধিবে যে, গোকুলে বাড়িছে সে।

Advertisement
----
-----