কথা কওয়া পাখি পোষার সাধ মেটাবে চিড়িয়াখানা

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: দেশ-বিদেশে এমন অনেক মানুষ আছেন, যাঁদের পাখি পোষার শখ রয়েছে। বিশেষ করে বিদেশি পাখি ঘরে এনে কথা বলাতে পারলে তো আর কথাই নেই! সেই সুযোগই করে দিয়েছে আলিপুর চিড়িয়াখানা। অন্তত ‘দুধের স্বাদ ঘোলে’ মিটতেই পারে! চিড়িয়াখানায় রয়েছে অনেকগুলি ম্যাকাও। তাদেরই কাউকে আপনি চাইলে দত্তক নিতেই পারেন।

মূলত মেক্সিকো ও দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব ও মধ্য উপকূলীয় অঞ্চলে দেখা মেলে ম্যাকাওদের। প্যারট প্রজাতির পাখি এই ম্যাকাও সহজেই পোষ মেনে যায়। দিব্যি থেকে যায় মানুষের সঙ্গে। মূলত ফল, শাক-সবজি, বাদাম, বিভিন্ন ধরনের বীজ, পাতা খেয়ে থাকে ম্যাকাওরা। তাদের ‘এক্সট্রা ক্যারিকুলার অ্যাক্টিভিটি’ বলতে কথা বলতে পারার ক্ষমতা। শুধু এটাই নয়৷ যদি গান শেখানো হয়, সেটাও সহজে রপ্ত করে নেয় তারা৷ চিড়িয়াখানার অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর এস. ভট্টাচার্যর বলেন, “চিড়িয়াখানায় সব মিলিয়ে ১৬টি নীল-হলুদ, লাল-নীল ম্যাকাও রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র দু’টিকে দত্তক দেওয়া হয়েছে।” অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টরের কথা অনুযায়ী এখনও ১৪টি ম্যাকাও চিড়িয়াখানায় রয়েছে, যাদের ‘পোষা’র দায়িত্ব যে কেউ নিতেই পারেন৷

- Advertisement -

চিড়িয়াখানা সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি ম্যাকাওকে দত্তক নিতে গেলে বার্ষিক ১০ হাজার টাকা দিতে হবে৷ পরের বছর চাইলে দত্তক নেওয়ার চুক্তি নবীকরণও করা যাবে৷ কথা বলা পাখিদের তালিকায় ইলেক্টাস প্যারট এবং গ্রে প্যারটও রয়েছে৷ তাদেরও দত্তক নেওয়া যাবে চিড়িয়াখানা থেকে। অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর এস. ভট্টাচার্যের কথায়, “আমাদের তিনটি ক্রাউন্ড ক্রেন রয়েছে। তার মধ্যে একটিকে দত্তক দেওয়া হয়েছে।” বাকি দু’টিকেও দত্তক দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি৷ তার জন্য খরচ পড়বে বছরে ১০ হাজার টাকা৷ সারস প্রজাতির এই ঝুঁটিওলা পাখিরা গাছেই বাসা বাঁধতে পছন্দ করে। এটিই এই ধরনের পাখির বিশেষত্ব৷