জঙ্গিদলে যোগ দেওয়ার প্রবণতা এই বছরেই সবথেকে বেশি

ফাইল ছবি

শ্রীনগর: তরুণদের মধ্যে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনে যোগ দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। সম্প্রতি একটি পরিসংখ্যান সামনে এসেছে। যেখানে দেখা গিয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরের জঙ্গি সংগঠন আল-কায়দাতে তরুণদের যোগদানের পরিমাণ লক্ষ্যনীয়। চলতি বছরের ৩১জুলাই পর্যন্ত ১৩১জন তরুণ সন্ত্রাসবাদী সংগঠনে যোগদান করেছে। যার মধ্যে প্রায় ৩৫ জন শোপিয়ান জেলার বাসিন্দা। পরিসংখ্যান বলছে ২০১০-এর পর সন্ত্রাসবাদী সংগঠনে যোগদানের পরিমাণ ২০১৮ই সবচেয়ে বেশি। সূত্রের খবর, ২০১৭ সালে এর সংখ্যা ছিল ১২৬।

সরকারি আধিকারিকরা জানিয়েছেন, তরুণরা আনসার ঘাজয়াত-উল-হিন্দ নামে একটি জঙ্গি সংগঠনে যোগদান করছে। এই সংগঠনের প্রধান জাকির রশিদ ভাট ওরফে জাকির মুশা। তিনি পুলওয়ামা জেলার ত্রাল অঞ্চলের একটি গ্রামে রাজত্ব করেন। এই সংগঠনটি আল-কায়দার সমর্থিত এমনটাই জানা গিয়েছে।

মুশার শ্লোগান ‘শরিয়ত ইয়া শাহাদত'( হয় ইসলামের আইন প্রতিষ্ঠা নয় মৃত্যু) বর্তমানে বহু প্রাচীন পাকিস্তানের শ্লোগানকে ছাপিয়ে মুখে মুখে ঘোরে, কাশ্মীর উপত্যকার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরা এমনটাই মনে করেন।

- Advertisement -

সময়ের কাটাঁকে যদি একটু ঘুরিয়ে দেখা হয়, ২০১৬ সালে ২৪ বছর বয়সী ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া হিজবুল মুজাহিরিদ্দিনের পোস্টারখ্যাত বুরহান ওয়ানি খুন হন। বুরহান জঙ্গি সংগঠনে নাম লেখালেও পড়াশুনোয় খুব ভালো ছিলেন। পাশাপাশি ক্যরাম খেলায় নিজের রাজ্যকে আন্তঃ-রাজ্য প্রতিযোগিতায় তুলে ধরেন। এতকিছু সত্ত্বেও জঙ্গি সংগঠনে কেন তিনি আসতে চেয়েছিলেন তার উত্তর অধরাই থেকে গেছে। পুলিশের এক উচ্চ আধিকারিক বলছিলেন, বুরহানের জঙ্গি সংগঠনে আসা এবং মৃত্যু কাশ্মীরের বহু তরুণকে উদ্বুদ্ধ করেছে। অনেকেই তাকে নিজেদের নেতা বলে মনে করেছেন।

পাশাপাশি ISIS জঙ্গি সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত ISJK তে যোগদানের উৎসাহও নেহাত কম নয় তরুণদের মধ্যে। তবে এর প্রধান দাউদ সোফির হত্যার পর এই সংগঠনে যোগদানের পরিমাণ কমেছে।

সূত্রের খবর, দক্ষিণ কাশ্মীরের সোপিয়ান,পুলওয়ামা, অনন্তনাগ,কুলগাম, আয়ান্তিপোরা জেলা থেকে প্রায় ১০০ জন তরুণ কাশ্মীর উপত্যকার বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সাথে যুক্ত। রাজ্যসভা ও পার্লামেন্টে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায় চলতি বছরের পরিসংখ্যান গত সাত বছরের পরিসংখ্যানকে ছাপিয়ে গিয়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে দিন যত এগোচ্ছে তরুণদের মধ্যে হাতে অস্ত্র তুলে নেওয়ার পরিমাণ তত বাড়ছে। কবি নজরুল বলেছিলেন, ‘আমরা শক্তি আমরা বল, আমরা ছাত্র দল’। কিন্তু আজ দেশের নব্য যুবারা যদি দেশকে রক্ষার তাগিদে নয় দেশেকে আক্রমণের উদ্দেশ্যে হাতে অস্ত্র তুলে নেয়, দেশের চরম দুর্দিন যে প্রহর গুনছে বলার অপেক্ষা রাখে না।

Advertisement ---
---
-----