ভারতীয় ফুটবলের উন্নতিসাধনই আমার প্রধান লক্ষ্য: জিকো

ডেম্পো ক্লাবের চেয়ারম্যান শ্রীনিবাস ডেম্পোর সঙ্গে এফ সি গোয়ার কোচ জিকো৷

২০০৪ সালে প্রাক বিশ্বকাপে জাপানের কোচ হিসেবে ভারতের এসেছিলেন৷ এছাড়া এদেশ সম্পর্কে খুব একটা ধারণা তাঁর নেই৷ তিনি ব্রাজিলের জীবন্ত কিংবদন্তী ফুটবলার জিকো (আর্থার আন্তুনেস কোয়েম্ব্রা)৷ এবছর আইএসএল-এ টিম গোয়ার প্রধান কোচ এবং ম্যানেজার হয়ে আবার ভারতে এসেছেন৷ ভারতীয় ফুটবল নিয়ে যে একেবারেই খোঁজখবর রাখেন না , তা নয়৷ কারণ এদেশের ফুটবলারদের খেলার মান নিয়ে যথেষ্ট অসন্তুষ্ট তিনি৷ কিন্তু টিম গোয়ার কোচিংয়ের দায়িত্ব পেয়ে তিনি আপ্লুত৷ এটাকে নতুন একটা চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছেন জিকো৷ ভারতীয় ফুটবল এবং আইএসএল নিয়ে তিনি কী বললেন সেটা একবার দেখে নেওয়া যাক৷

প্রশ্ন: ভারত থেকে আপনার প্রত্যাশা কী?

জিকো: আইএসএল একটা বিশাল লিগ৷ আমি মনে করি এই লিগ দিয়েই ভারতের ফুটবলের মান অনেকাংশে বাড়বে৷ সাফল্য পেতে আমাদের এখন অনেক খাটতে হবে৷ নিজের দেশে এই কাজটাই সারাজীবন করেছি৷ এবার সেই কাজটাই ভারতে এসেও করতে চাই৷ আমার নিজের অভিজ্ঞতা এবং ফুটবল জ্ঞ্যানকে এদেশের ফুটবল উন্নতিতে কাজে লাগাব৷ এশিয়ার ফুটবল দিন দিন অনেক উন্নতি করছে৷ আমি এখানে কোনও ট্যুরিস্ট হিসেবে আসিনি৷ এখানে এসেছে ভারতীয় ফুটবলের উন্নতি সাধনেই৷ ভারত অনেক বড় দেশ হলেও খুবই দুঃখের বিষয় যে এখানে ফুটবলের মান অতটা উন্নত নয়৷ ২০০৪ সালে আমি জাপানের কোচ হিসেবে কলকাতা গিয়েছিলাম প্রাক বিশ্বকাপ খেলতে৷ সেখানে ফুটবল নিয়ে মানুষের চরম উন্মাদনা এবং উৎসাহ দেখেছিলাম৷ তাই এদেশের মানুষ যখন এত পছন্দ করে ফুটবলকে তখন এই খেলার মান এবং পরিকাঠামো অনেকাংশেই উন্নতি করতে হবে ৷ সরকারের সাহায্য নিয়েই দেশের ফুটবল ফেডারেশন সেই কাজটা করে দেখাবে বলে আশাবাদী আমি৷

- Advertisement -

প্রশ্ন:  আগামী সপ্তাহগুলিতে কোন কোন বিষয়গুলির উপর সবচেয়ে বেশি ফোকাস করবেন?

জিকো: আমার লক্ষ্য একেবারে পরিষ্কার৷ একটাই লক্ষ্য, টুর্নামেন্টের ফাইনালে ওঠা এবং চ্যাম্পিয়ন হওয়া৷আমি এব্যাপারে যথেষ্ট আশাবাদী৷ এর জন্য অবশ্য আমাদের ভালমতো তৈরি হতে হবে৷ এখন দলের প্রতিটা খেলোয়াড়কে ভালভাবে চিনতে হবে আমাকে৷নিজের ফুটবল দর্শনও ফুটবলারদের সঙ্গে ভাগ করে নেব৷

প্রশ্ন: আপনি জাপান এবং তুরস্কের মতো দেশে কোচিং করিয়েছেন৷ ভারতের মতো ফুটবলে অনুন্নত দেশে কোচিং করানোটা আপনার কাছে কতটা বড় চ্যালেঞ্জ?

জিকো: সব দেশই একে অপরের থেকে আলাদা৷ জাপানেও কোনওরকম পেশাদারিত্ব ছিল না৷ কিন্তু আমার কাছে সবচেয়ে সুবিধার ছিল যে জাপানের দলটা অত্যন্ত ঐক্যবদ্ধ ছিল৷ ওরা চেয়েছিল দুর্বল দল থেকে ক্রমশই পেশাদার হয়ে উঠতে৷ তুরস্কতেও ওরা শুধু দেশের লিগের উপরই বেশি গুরুত্ব আরোপ করত৷ আমি ওদের মানসিকতা বদলানোর চেষ্টা করেছিলাম৷ চেয়েছিলাম দেশের ক্লাব ফুটবল ছাড়াও তুরস্কের ফুটবল ফেডারেশন এবং ফুটবলাররা যাতে আন্তর্জাতিক ফুটবলের কথা ভাবে৷ কাতারেও তরুণরা বেশি ফুটবল খেলতে চাইত না ৷ আমি ওদের মানসিকতা বদলানোর চেষ্টা করেছি৷ ভারতেও আমি সেই ব্যাপারটাই করতে চাই৷ এদেশের ফুটবল উন্নতিতে আমি সবরকম সাহায্য করতে প্রস্তুত৷Brazilian football coach Zico

প্রশ্ন:  ফুটবল কোচিংয়ে কীভাবে আসলেন? প্লেয়ার থেকে কোচ হওয়াটা কতটা কঠিন?

জিকো:  আমি সবসময় খেলার উপরেই ফোকাস করতাম৷ কখনও ভাবিনি যে কোচ হব৷ জাপানে খেলতেই গিয়েছিলাম৷ সেখানে কোচিং করানোর অনুরোধ আসে আমার কাছে৷ যে অনুরোধ আমি গ্রহণ করেছিলাম৷ দলটাও বেশ কয়েক বছর ধরে খুব একটা ভাল পারফরম্যান্স করতে পারছিল না৷ তখনই ক্লাব প্রেসিডেন্ট আমাকে দায়িত্ব নিতে বলেছিলেন৷ তখন আর বাকি ছিল মাত্র ১৩টা ম্যাচ৷ কিন্তু দল হিসেবেই আমরা লড়েছিলাম৷ এবং ১৩টা-র মধ্যে ১১টা ম্যাচেই জিততে পেরেছিলাম আমরা৷ বাকি একটা ম্যাচে হার এবং একটায় ড্র করেছিলাম আমরা৷ ওখান থেকেই কোচিংটা উপভোগ করতে শুরু করি৷

প্রশ্ন: আপনার মতে এখন বিশ্বের সেরা ফুটবলার কে?

জিকো: কলম্বিয়ার জেমস রডরিগেজ৷

প্রশ্ন: আপনার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই এফ সি গোয়া ফুটবলার বাছাইয়ের কাজ সম্পূর্ণ করে ফেলেছিল৷ বিষয়টাকে কীভাবে দেখছেন?

জিকো: এর মধ্যে কিছু ভুল আমি দেখছি না৷ আমি আমার কাজ করতে এখানে এসেছি৷ যেটা হল ফুটবলারদের ট্রেনিং দেওয়া৷ ফুটবলারদের থেকে সেরাটা বার করে আনাই আমার কাজ৷ ফুটবলাররা ক্লাবকে প্রতিনিধিত্ব করছেন, ট্রেনারকে নয়৷ আমি নিজের সেরাটাই দেব৷ সেখানে ভাল-খারাপ ফল সবটাই ভবিষ্যতের উপর নির্ভর করছে৷ টিম খারাপ খেললে কোচের উপরই সব দোষ এসে পড়ে৷ যেটা খুবই খারাপ৷ ব্রাজিলে চারটে ম্যাচ হারলেই কোচকে দল থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়৷ ইংল্যান্ডে আবার সেরকম নয়৷ এটা বিভিন্ন দেশের ফুটবল সংস্কৃতির উপর নির্ভর করে৷ আমার কাজ হল প্লেয়ারদের ভালভাবে তৈরি করা৷ যদি এফসি গোয়া রোনাল্ডো-নেইমারদেরও দলে সই করাত৷ তখনও ওদেরকে ট্রেনিং দেওয়াটাই আমার কাজ হত৷

                                                                           প্রতিবেদন: সিদ্ধার্থ সরকার

 

Advertisement
---

Comments are closed.