সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: মানুষ ভাগাড়ের মাংস খেলেও, বাঘ খায়নি৷ এমনটাই জানিয়ে দিল আলিপুর চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ উঠছে, চিড়িয়াখানায় বাঘ-সিংহের খাওয়ার জন্য যে মাংস দেওয়া হচ্ছে, সেখানে ভাগাড়ের মাংস রয়েছে। এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে চিড়িয়াখানার কর্তৃপক্ষ৷ জানানো হয়েছে, এই অভিযোগ অবান্তর৷ টাটকা মাংস খায় আলিপুর চিড়িয়াখানার মাংসাশী প্রাণীরা৷

ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার দুপুর৷ চিড়িয়াখানা সংলগ্ন খাবারের দোকানগুলিতে খাবারের মান কেমন তা দেখতে গিয়েছিলেন কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের মেয়র পারিষদ অতীন ঘোষ। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যেহেতু চিড়িয়াখানার পশুদের মাংস দেওয়া হয় এবং উচ্ছিষ্ট ফেলে দেওয়া হয়, সেই কারণে পশুশালায় মাংসের যে কর্মকাণ্ড রয়েছে সেই সম্বন্ধে জানতে চাওয়া হয়। সেখানেই উঠে আসে প্রশ্ন। তবে কি মানুষের পাতে ভাগাড়ের মাংসের মতোই পশুদের খাদ্যেও মিশছে ভাগাড়ের মাংস?

এই প্রশ্নে চিড়িয়াখানার অধিকর্তা আশিসকুমার সামন্ত ক্ষোভ উগড়ে দেন। তিনি বলেন, “আমি এর তীব্র প্রতিবাদ করছি। চিড়িয়াখানায় অত্যন্ত যত্ন সহকারে কাজটা করা হয়। কোথা থেকে আসছে। মাংসের গুণগত মান কেমন৷ এ সব পুঙ্খানুপুঙ্খ বিচার করে দেখে তবেই সেই মাংস যায় পশুদের কাছে। তার আগে আমরা কোনও পশুকে দিই না৷ যদি প্রশ্ন উঠে থাকে, আমি বলছি এই প্রশ্ন সম্পূর্ণ ভুল।” একইসঙ্গে তিনি বলেন, “মাংস আসে রাজ্য সরকারেরই অনুমোদিত ট্যাংরার কসাইখানা থেকে। সেখান থেকে প্রত্যেক দিন ১১৫ থেকে ১২০ কেজি মহিষের মাংস সকালবেলা গাড়ি করে আসে চিড়িয়াখানায়।”

এর পরের পদ্ধতিটি কী ? আশিসকুমার সামন্ত বলেন, “আমাদের কাছে টাটকা কোয়ার্টার পিসের মাংস আসে। রাখা থাকে আমাদের স্টোরে। তার পর সেটাকে আমাদের চিড়িয়াখানার চিকিৎসক রয়েছেন, তিনি পরীক্ষা করে দেখেন গুণগত মান। তিনি স্বীকৃতি দিলে তবে সেই মাংস কেজি অনুযায়ী কেটে দেওয়া হয় প্রাণীদের।” এর পরেই তিনি বলেন, “ভাগাড়ের মাংস মানুষের পাতে যেতে পারে। কিন্তু আমাদের চিড়িয়াখানার পশুর পাতে কখনোই যায় না। ওরা অত্যন্ত যত্নে থাকে। ওই মাংস খেলে ওদের শরীরে কোনও না কোনও সমস্যা দেখা দিত। কারণ রান্না করা নয়, ওদের কাঁচা মাংস দেওয়া হয়।”

চিড়িয়াখানা সূত্রে জানা গিয়েছে, গত দুই বছর প্রতি সপ্তাহে পশুদের মুরগির মাংসও খেতে দেওয়া হচ্ছে। অধিকর্তা বলেন, “ওই মাংসতেও যাতে কোনও গন্ডগোল না থাকে, তার জন্য আমার সামনে মুরগির ড্রেসিং করিয়ে তার পর সেটা যায় পশুদের কাছে। তাই কোনও ভাবেই কোনও খারাপ মানের মাংস পশুদের কাছে যায় না।” ভাগাড়ের মাংস বিতর্কে মিশেছে চিড়িয়াখানার উচ্ছিষ্ট মাংসও। এই কাণ্ডে আরও সতর্ক হওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর পরের দায়িত্বটা কলকাতা পুরসভারই হওয়া উচিৎ বলেও জানানো হয়েছে৷

----
--